০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ সকালে বড়মার মন্দিরে পুজো, রাতে প্রেমিকাকে খুন! অশোকনগরের পরকীয়া কাণ্ডে শিউরে উঠল বাংলা
অপরাধআইন-কানুনপশ্চিমবঙ্গ

সকালে বড়মার মন্দিরে পুজো, রাতে প্রেমিকাকে খুন! অশোকনগরের পরকীয়া কাণ্ডে শিউরে উঠল বাংলা

Share
সকালে বড়মার মন্দিরে পুজো, রাতে প্রেমিকাকে খুন! অশোকনগরের পরকীয়া কাণ্ডে শিউরে উঠল বাংলা
ছবি সংগৃহীত
Share

অশোকনগর: সকালে প্রেমিকার হাত ধরে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে পুজো দেওয়া, আর রাতেই সেই প্রেমিকাকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে নৃশংস খুন! উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের গুমা এলাকায় এক গৃহবধূর পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার এমনই এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আনল পুলিশ। ছ’বছরের বিবাহবহির্ভূত পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতা মেটাতে প্রেমিকাকে রীতিমতো পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রেমিক কুতুবউদ্দিন দফাদার ওরফে বাবলুকে। মৃতার নাম রিঙ্কু দাস। সোমবার তাঁর দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি জালে ধরা পড়ে এই সাইকোপ্যাথ প্রেমিক।

[TECHTARANGA-POST:10705]

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রিঙ্কু দাসের বাড়ি অশোকনগরের কল্যাণগড় এলাকায়। স্বামী সুজন দাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি একটি ভাড়া বাড়িতে একা থাকতেন। এই সুযোগেই গুমার দোগাছিয়ার বিবাহিত যুবক কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৬ বছরের এই পরকীয়া প্রেম সম্প্রতি দুই পরিবারে জানাজানি হতেই কুতুবউদ্দিনের সংসারে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। এর পরেই রিঙ্কুকে চিরতরে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট ছকে ফেলে বাবলু। গত ৩ জুলাই সকালে নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রিঙ্কুকে বাইকে চাপিয়ে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে পুজো দিতে নিয়ে যায় সে। সেখানে একসঙ্গে পুজো দেওয়ার পর সন্ধ্যায় ফের দুজনে বাইকে করে ঘুরতে বের হন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গুমা ২ পঞ্চায়েতের তাজপুরের একটি নির্জন অন্ধকারে বাইক থামিয়ে, পিছন থেকে আচমকাই রিঙ্কুর গলায় তাঁরই ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে বাবলু।

[TECHTARANGA-POST:10714]

খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রিঙ্কুর নিথর দেহটি পাশের একটি পুকুরের জলে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। গত ৩ জুলাই থেকেই রিঙ্কুর কোনও খোঁজ না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। অবশেষে সোমবার ওই পুকুর থেকে এক তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে রিঙ্কুর প্রাক্তন স্বামী সুজন দাস ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। এর পরেই তদন্তে নেমে পুলিশ রিঙ্কুর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং শেষ কার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে কুতুবউদ্দিনকে আটক করে। কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে নিজের মুখে এই পৈশাচিক খুনের কথা কবুল করে বাবলু। ধৃতকে জেরা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণ এবং আর কেউ এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *