০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি দিল্লি ‘ছাত্রদের ওপর গুলির নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর!’ লোকসভায় রাহুলের বিস্ফোরক দাবিতে মুলতুবি সংসদ
দিল্লিভারতবর্ষরাজনীতিরাজনীতি

‘ছাত্রদের ওপর গুলির নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর!’ লোকসভায় রাহুলের বিস্ফোরক দাবিতে মুলতুবি সংসদ

Share
Share

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা পেপর লিক বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের পারদ এবার পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায়। লোকসভায় অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মারাত্মক এবং নজিরবিহীন অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশেই গুলি ও পেলেট গান চালিয়েছে পুলিশ। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরই শাসকদলের প্রবল বিক্ষোভে তোলপাড় হয়ে ওঠে গোটা লোকসভা, যার জেরে সাময়িকভাবে সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন স্পিকার।

বুধবার লোকসভায় আলোচনার সময় বক্তব্য রাখতে উঠে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে আমাদের দেশের নিরীহ ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর আদেশ দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই প্রতিবাদের আওয়াজ তোলা শিক্ষার্থীদের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিকর পেলেট।” মূলত গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবিতে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে ‘সংসদ চলো’ অভিযানে নামা হাজার হাজার পড়ুয়ার ওপর দিল্লি পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট চালনার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই এই বিস্ফোরক দাবি করেন কংগ্রেসের শীর্ষনেতা।

রাহুলের এমন মারাত্মক অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদরা। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুসহ শাসক জোট এনডিএ-র সাংসদরা সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। স্পিকার ওম বিড়লার দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাসকদলের তরফে দাবি তোলা হয়, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সংসদের ভেতরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ আনা যায় না। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অবিলম্বে রাহুল গান্ধীকে প্রমাণ দাখিল অথবা পুরো সংসদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। স্পিকার ওম বিড়লাও রাহুলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রামাণ্য নথি ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ তোলা সংসদের নিয়মবিরুদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০ জুলাইয়ের সেই রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলনের পরই তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে ইস্তফা দিতে হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠিতে কৈফিয়ত তলব করে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক অস্ত্র ও পেলেট ব্যবহারের অনুমতি তিনি দিয়েছিলেন কি না। তবে বুধবার লোকসভার ভেতরের এই অভূতপূর্ব সংঘাতে কেন্দ্র-বিরোধী রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:11333]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles