নয়াদিল্লি: জল্পনা-কল্পনা ও নানা ধরনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান। এনডিএ-র আগের দুটি বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তাঁদের স্পষ্ট দাবি ছিল, তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনোভাবেই বিজেপির সঙ্গে সরাসরি এক মঞ্চে দৃশ্যমান হতে চান না। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলার প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের এনডিএ-র অংশ হিসেবে তুলে ধরা নিয়ে এক চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আমন্ত্রণ উপেক্ষা করতে পারেননি তাঁরা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্রেকফাস্ট টেবিলজুড়ে আলোচনা থাকলেও এনসিপিআই-এর পৃথক রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা মোদীর কাছে সরাসরি তুলে ধরেন সাংসদরা। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও আলাদা স্বীকৃতি না মিলায় দলের ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। তবে সব শুনে মোদী আপাতত তাঁদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সূত্র মারফৎ খবর।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী তাঁদের ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এনসিপিআই-এর আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতির চেয়েও এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতীক ও নাম সম্পর্কিত আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের প্রতীক লড়াইয়ে বিপরীত জল গড়ালে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ঝামেলা এমনিতেই উবে যাবে, যার ফলে ভবিষ্যতের কৌশল বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে। ফলে এনসিপিআই ইস্যুতে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত সাংসদকে নিজ নিজ লোকসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি এলাকার বিকাশ ঘটলেই শেষপর্যন্ত গোটা দেশের বিকাশ বাস্তবায়িত হবে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার এই ৩ সাংসদকে নিয়ে জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই চোখ রাখছে দিল্লির রাজনীতি!
[TECHTARANGA-POST:11495]
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
Leave a comment