০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি কলকাতা পুজোয় আমিষ খেলে অধার্মিক? ‘পাঁঠার মাংস প্রসাদ’, নিরামিষ বিতর্কে সপাট দিলীপ!
কলকাতাধর্ম ও বিশ্বাসপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিরাজনীতি

পুজোয় আমিষ খেলে অধার্মিক? ‘পাঁঠার মাংস প্রসাদ’, নিরামিষ বিতর্কে সপাট দিলীপ!

Share
পুজোয় আমিষ খেলে অধার্মিক? ‘পাঁঠার মাংস প্রসাদ’, নিরামিষ বিতর্কে সপাট দিলীপ!
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি
Share

কলকাতা: দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে পাতে মাংস-মাছ পড়লে কি ধর্মভ্রষ্ট হতে হয়? সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত সাধু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’র এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন পুজোয় আমিষ বনাম নিরামিষের লড়াই তুঙ্গে, তখনই আসরে নেমে আমিষের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পুজোর খাওয়াদাওয়া নিয়ে আরোপিত নিয়মের কড়া সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলায় দুর্গাপুজোর সময় পাঁঠার মাংস খাওয়া নতুন কিছু নয়, বরং তা রীতিমতো মহাপ্রসাদ। একইসঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে নাক গলানোর পুরনো অভ্যাস নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকেও একহাত নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই পুজোর ভোজ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাছ ছাড়া বিশেষ কিছু খান না, তবে মানুষ কী খাবে তা একান্তই তাঁদের ব্যক্তিগত রুচি। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় দুর্গাপুজো ও কালীপুজোয় বলি দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে এবং দেবীকে নিবেদনের পর সেই পাঁঠার মাংস প্রসাদ রূপেই ভক্তরা গ্রহণ করেন। ফলে এ নিয়ে কোনো নতুন করে বিতর্কের অবকাশ থাকতে পারে না। সাধুসন্তরা শরীর-স্বাস্থ্যের কথা ভেবে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দিতেই পারেন, কিন্তু তা কারও উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

উল্লেখ্য, বাগেশ্বর বাবা সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে পুজোর সময় যারা আমিষ খায় তারা আসলে ‘পাখণ্ডী’ বা অধার্মিক। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তিনি পালটা প্রশ্ন তোলেন, ওই সাধুর দরবারে যেসব ভক্তরা যান, তিনি কি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন তাঁদের মধ্যে কেউ মাছ-মাংস স্পর্শ করেন না? দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে দেন, মধ্যপ্রদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি এক নয়। বাঙালি মা কালীর ভক্ত। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যতদিন এ দেশ থাকবে, মা কালী পাঁঠা খাবেন এবং দেবাদিদেব মহাদেব ডমরু বাজাবেন—এটাই এই মাটির চিরন্তন রূপ। একই সুরে এর আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও বলতে শোনা গেলেও এই স্পর্শকাতর খাদ্য-বিতর্কে এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে শারদোৎসবের ঠিক মুখে বাঙালির পাত এবং পুজো ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় তরজা এখন সপ্তমে।

[TECHTARANGA-POST:12409]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles